Issue area তথ্য চুরি

ব্যক্তিগত বা পেশাগত যে কারণেই তুমি ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকো না কেন, তোমাকে অবশ্যই ইন্টারনেটের জালে পেচিয়ে থাকা ঝুঁকিগুলি সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। কারণ, ইন্টারনেটের ঝুঁকিগুলি মারাত্মক হলেও তোমার বুদ্ধিমত্বা ও সচেতনতার মাধ্যমে সেগুলিকে এড়িয়ে অনাকাঙ্খিত অনেক বিপদ থেকে বাঁচা সম্ভব। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীগণ যে কয়েকটি সম্ভাব্য বিপদের সম্মুখীন হতে পারে তার মধ্যে ‘তথ্য চুরি’ অন্যতম। বিভিন্নভাবেই ইন্টারনেট থেকে তোমার তথ্য চুরি হয়ে যেতে পারে। যেমন:১. অরক্ষিত ওয়েবসাইট বা পাব্লিক Wi-Fi-এ শেয়ার করা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। ২. তোমার মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার চুরি হয়ে গেলে এসব ডিভাইস থেকেও ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাঙ্ক একাউন্টের তথ্য ইত্যাদি চুরি হতে পারে। ৩. প্রতারকরা ইমেইল হ্যাকিং এর মাধ্যমে ব্যাঙ্ক এবং ক্রেডিট কার্ড স্টেটমেন্ট, পূর্ব-অনুমোদিত ক্রেডিট কার্ড অফার, কর-প্রদান সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের নাগাল পেতে পারে।   ৪. বিভিন্ন থার্ড পার্টি সোর্স (উৎস) থেকে ব্যক্তিগত তথ্য কিনে নেওয়ার মাধ্যমেও প্রতারকরা অনেক স্পর্শকাতর তথ্যের নাগাল পেতে পারে। ৫. ইন্টারনেট তথ্য সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্মচারী, যার কাছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অ্যাক্সেস আছে, এমন মানুষের মাধ্যমেও তোমার ইন্টারনেটে দেওয়া তথ্য চুরি হয়ে যেতে পারে। ৬. একজন হ্যাকিং এর শিকার হলে, তার ডিভাইসের মাধ্যমে পরিবারের বা কর্মসংস্থানের অন্যান্য কর্মীদের তথ্য ও চুরি হতে পারে। ৭. থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরি হয়ে যাওয়া বা বেহাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।মনে রাখবে, সাইবার অপরাধীরা বিভিন্ন অবৈধ কাজে তোমার তথ্য ব্যবহার করতে পারে। এমনকি ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে টাকা চুরি, তোমার নামে ক্রেডিট কার্ড অথবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে বা আরও বড় কোন অপরাধ করতে পারে। এর ফলে আর্থিক বা সামাজিক ক্ষতিসহ বিভিন্ন অপরাধের দায়ভারও পড়তে পারে তোমারই ওপর। কাজেই ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান ও সংরক্ষণে যত্নবান হওয়া একান্তই জরুরি। 

আরও জানুন
Issue area আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক ক্ষয়ক্ষতি

শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক পর্যন্ত সকলের কাছেই ইন্টারনেটের গুরুত্ব অনেক। এছাড়াও করোনা ভাইরাসজনিত কারণে আমাদের জীবনযাপন আরো বেশি ইন্টারনেটমুখী হয়ে গিয়েছে। জামাকাপড়, ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি কিংবা খাবার কেনা, গবেষণা, গ্যাস-বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করা, এবং অন্যদের সাথে যোগাযোগ করার উদ্দেশ্যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেকটাই  অনলাইনে ব্যয় হয়। ইন্টারনেটের ব্যবহার জীবনকে সহজতর করেছে ঠিকই, তবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সাথে এর সামঞ্জস্যতা ঠিক না থাকলে বিভিন্ন ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়। ব্যক্তিগত বা পেশাগত যে কারণেই তুমি ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকো না কেন, তোমাকে অবশ্যই ইন্টারনেটের জালে পেচিয়ে থাকা ঝুঁকিগুলি সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীগণ যে কয়েকটি সম্ভাব্য বিপদের সম্মুখীন হতে পারে তার মধ্যে আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক ক্ষয়ক্ষতিগুলো উল্লেখযোগ্য।সামাজিক ক্ষয়ক্ষতি: ইন্টারনেট ব্যবহারকারীগণ যে সকল সামাজিক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে পারে তার মধ্যে প্রধান হলো –১। পরিচয় নকলকারীর মাধ্যমে কোনো আপত্তিকর অথবা বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী তথ্য ছড়ানোর কারণে হয়রানির শিকার হওয়া।২। থার্ড পার্টি অ্যাপের ব্যবহারের কারণে ব্যক্তিগত গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়া।৩। যোগাযোগের জন্য অধিক ইন্টারনেট নির্ভরতার কারণে ব্যক্তিপর্যায়ের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ও সামাজিক মেলামেশায় অসামঞ্জস্যতা দেখা যায়।৪। ধর্মীয়, ভাষাগত বা জাতিগত কারণে প্রতিহিংসামূলক আচরণের শিকার হতে পারে।  ৫। অপ্রাপ্ত বয়ষ্কদের কাছে আপত্তিকর কন্টেন্ট (ছবি, লেখা বা ভিডিও) ছড়িয়ে যেতে পারে।৬। কর্মক্ষেত্রে দুর্ভোগ, যেমন, কাজে ক্রমাগত দেরি হওয়া, সময়সীমা মিস করা, ত্রুটিপূর্ণ কাজ জমা দেওয়া, ইত্যাদি ঘটনার মুখোমুখি হতে পারে।৭। অনলাইন কার্যাবলি ও বন্ধুদেরকে অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে হতে পারে।৮। 'বাস্তব বিশ্ব' থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং বন্ধু ও পরিবারের সাথে যোগাযোগ কমে যেতে পারে। মানসিক ক্ষয়ক্ষতি: ইন্টারনেট ব্যবহারকারীগণ যে সকল মানসিক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে পারে তার মধ্যে প্রধান হলো –১। নিদ্রাহীনতা অথবা রাতে নির্বিঘ্ন ঘুমে ব্যাঘাত ঘটা।২। হতাশা, উদ্বেগ এবং দুঃখ। যারা ইন্টারনেটে অত্যধিক সময় ব্যয় করে তারা বাস্তবতার সাথে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে এবং একটি কল্পনার জগতে বাস করে। যার ফলে হতাশা-উদ্বেগের মতো ব্যাপারগুলো নিত্যসঙ্গী হয়ে থাকে।৩। সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে অক্ষম হওয়া।৪। মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকা, ইত্যাদি।  আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি: ইন্টারনেট ব্যবহারকারীগণ যে সকল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে পারে তার মধ্যে প্রধান হলো – ১। পাসওয়ার্ড/পিন কোড চুরির মাধ্যমে হ্যাকাররা তোমার সঞ্চিত অর্থ-সম্পদ চুরি করতে পারে।২। ইন্টারনেটে কোনো ব্যাক্তির অগোছালোভাবে ছড়িয়ে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড, ব্যাঙ্ক একাউন্ট বানিয়ে প্রতারকরা আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে।৩। প্রতারক চক্র বিভিন্ন লোভনীয় অফার এর কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নিতে পারে।৪। প্রতারক চক্র বিভিন্ন মোবাইল ব্যাঙ্কিং কোম্পানির কাস্টোমার সেবাদানকারী ব্যক্তি সেজে ফোন কল অথবা এসএমএস-এর মাধ্যমে পিন নম্বর সংগ্রহ করে থাকে। এভাবেই আমাদের দেশে বিকাশ,নগদ প্রভৃতির মোবাইল ব্যাঙ্কিং সেবা ক্ষেত্রে প্রতারকরা লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।  উপরোক্ত ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও ইন্টারনেট এর অধিক এবং অসচেতন ব্যবহার আমাদের বিভিন্ন বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই, ইন্টারনেটের উপর অত্যাধিক মাত্রায় নির্ভরশীল না হয়ে বাস্তব-স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ইন্টারনেটের সুষম ও সচেতন ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।  

আরও জানুন
Issue area ডিজিটাল পরিমণ্ডলের ঝুঁকিসমূহ থেকে নিজের ডিভাইসকে সুরক্ষিত রাখতে করনীয়

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা নানাভাবে বিপদ বা ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। এর মধ্যে কয়েকটি সম্ভাব্য বিপদ হলো- হ্যাকিং এর শিকার হওয়া, ক্ষতিকর ভাইরাস এর আক্রমনের শিকার হওয়া, ফিশিং, ম্যালওয়্যার, ইত্যাদি। এসব অনাকাঙ্খিত ঘটনার সম্মুখীন হলে তোমার অজান্তেই তোমার অ্যাকাউন্ট ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। এমনকি অ্যাকাউন্ট ও ডিভাইসের অ্যাক্সেস প্রতারকদের কাছে চলে যেতে পারে। প্রতারকদের হাত থেকে তোমার অ্যাকাউন্ট যেভাবে রক্ষা করবে:১। তোমার Wi-Fi নেটওয়ার্ক সুরক্ষিত করো।২। তোমার অ্যাকাউন্ট পাসওয়ার্ডটি নিয়মিত পরিবর্তন করো।৩। দ্বিমাত্রিক প্রমাণীকরণ (টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) চালু করে রাখো।৪। পুরানো রাউটার পরিবর্তন করো।৫। তোমার নেটওয়ার্ককে নিয়মিত নিরীক্ষণ (মনিটর) করো। এছাড়াও নিজের অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল ডিভাইসে থাকা তথ্যসমূহ সুরক্ষিত রাখতে নিচের ধাপগুলি অত্যন্ত কার্যকরী হিসেবে বিবেচিত হয়: ক) একটি পাসকোড দিয়ে ডিভাইসটি সুরক্ষিত রাখতে হবে৷ মনে রাখবে, তোমার ব্যক্তিগত তথ্যসমূহে অ্যাক্সেস পাওয়ার জন্য সবচেয়ে সহজ উপায় হল এটি নকল করতে পারা। তাই এমন একটি পাসকোড দিতে হবে যেটি সহজেই অন্যের পক্ষে আন্দাজ করা সম্ভব হবে না। খ) তোমার ব্যবহার করা অ্যাপসমূহকে নিয়মিত চেক/মনিটর করে দেখবে যেন তোমার অজান্তে কোনো থার্ড পার্টি অ্যাপসের সাথে সংযুক্ত না থাকে।গ) পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।ঘ) তোমার প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ দূরবর্তী বিকল্প কোনো মাধ্যমে (রিমোট ব্যাক আপ স্টোরেজ এ) জমা রাখতে পারো।ঙ) তোমার ডিভাইসে ব্যবহার করা অপারেটিং সিস্টেমকে নিয়মিত আপডেট করতে হবে।চ) কোথাও তোমার অ্যাকাউন্ট লগ-ইন করলে অবশ্যই কাজ শেষে অ্যাকাউন্ট থেকে লগ আউট হতে হবে। ব্যক্তিগত বা পেশাগত যেই কারণেই তুমি ইন্টারনেট ব্যবহার করো না কেন, তোমাকে অবশ্যই ডিজিটাল মাধ্যম সংশ্লিষ্ট ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে শুরু থেকেই সচেতন থাকতে হবে। কারণ, এসব ঝুঁকি মারাত্মক হলেও বুদ্ধিমত্তা ও সচেতনতার মাধ্যমে সেগুলো থেকে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব। আর সচেতনতার মাধ্যমে নিজের সুরক্ষাই বুদ্ধিমানের কাজ।  

আরও জানুন
Issue area অ্যাকাউন্ট তৈরি ও লগইন ক্ষেত্রে সতর্কতাবাণী ও পাসওয়ার্ড নির্বাচন

একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সোহাগ একজন নতুন ব্লগার। নতুন নতুন খাবারের দোকানের চমকপ্রদ সব খাবারের রিভিউ ভিডিও বানানোর কারণে বর্তমানে তার পরিচিতি বেড়েই চলেছে। হঠাৎ একটি এড দেখে সোহাগ জানতে পারে যে, একটি নতুন অ্যাপের মাধ্যমে তার ফেসবুক-ইউটিউব একাউন্টগুলো ব্যবহার করলে তার বানানো ভিডিওগুলো আরো দ্রুত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। খুব বেশি চিন্তাভাবনা ছাড়াই সোহাগ অ্যাপ্সটি ডাউনলোড করে ব্যবহার করা শুরু করলো। অ্যাপ্সটি ব্যবহার করার জন্য সোহাগকে ফেসবুক-ইউটিউব একাউন্টের বিস্তারিত তথ্য (লগ-ইন তথ্য যেমন, পাসওয়ার্ড, ইমেইল, মোবাইল নম্বর, ইত্যাদি) প্রদান করতে হলো। এর কয়েক মূহুর্ত পরেই সোহাগের ফেসবুক এবং ইউটিউব একাউন্টটি হ্যাকিং এর শিকার হলো।সোহাগের মতো এমন হাজারো তরুণ-তরুণী প্রতিদিনই ইউটিউব, ফেসবুক কিংবা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন সেলিব্রিটিদের ছবি-ভিডিও বা জীবনযাপন দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছে। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ব্লগার-ইনফ্লুফ্লয়েন্সারদের সংখ্যা। আর এসব মাধ্যমের অসতর্ক ব্যবহারের কারণে নানারকম ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে ব্যক্তিগত তথ্যাদি বেহাত হওয়ার পাশাপাশি অনেকেই আর্থিক ও সামাজিক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে। মূলত একাউন্ট তৈরি বা লগ-ইন করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন না করার কারণেই তারা বিভিন্ন ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই অনলাইনে বিভিন্ন কাজের জন্য একাউন্ট তৈরি বা লগ-ইন করার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। যেমন: একাউন্ট তৈরি করার সময়ে যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে:১। একটি শক্তিশালী এবং অনন্য (ইউনিক) পাসওয়ার্ড বাছাই করতে হবে।২। টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (জি মেইল, ইয়াহু, ফেসবুক, হোয়াটস আপ, টুইটার ইত্যাদি অ্যাকাউন্ট সুরক্ষার বাড়তি একটি ধাপ) এর মাধ্যমে একাউন্টের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।৩। নাম, ফোন নম্বর, ইমেল ঠিকানাসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার সময়ে সাবধান থাকতে হবে। একাউন্টে লগ-ইন করার সময়ে যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে:১। তোমার ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্যসমূহ ব্যবহার করে লগ-ইন করার ক্ষেত্রে ঐ ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্মটির যথাযথ গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করতে হবে।২। সন্দেহজনক লিঙ্কসমূহ ব্যবহার করা অথবা এসব লিঙ্কে প্রবেশ করতে একাউন্টের তথ্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।৩। পাবলিক (গণ) ওয়াই-ফাই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা মেনে চলতে হবে। যেমন ফ্রি ওয়াই-ফাই চালিয়ে কখনোই অনলাইন ব্যাংকিংয়ের কাজ করা উচিত নয়। সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাবহার এড়িয়ে যাওয়াটাই সবচেয়ে নিরাপদ। ইমেইল বা স্কাইপেও লগ ইন না করাটাই নিরাপদ হবে।৪। সাইবার ক্যাফে ব্যবহার করলে অথবা ব্যক্তিগত ডিভাইস ছাড়া অন্য কোথাও একাউন্ট লগ ইন করে থাকলে অবশ্যই কাজ শেষে লগ-আউট করতে হবে।৫। সাইবার ক্যাফে ব্যবহার করলে অথবা ব্যক্তিগত ডিভাইস ছাড়া অন্য কোথাও একাউন্ট লগ ইন করে থাকলে, কখনোই লগ-ইন তথ্য সেভ করে রাখা যাবে না। একাউন্টের জন্য পাসওয়ার্ড নির্বাচনের সময়ে যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে:১। অক্ষর, সংখ্যা এবং কীবোর্ড সংকেতসমূহের সমন্বয়ে পাসওয়ার্ড নির্বাচন করলে তা অন্যদের পক্ষে ধারণা করা কঠিন হয়ে থাকে।২। ইংরেজি অক্ষর ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছোট ও বড় হাতের অক্ষরের মিশ্র ব্যবহার পাসওয়ার্ডটিকে আরো শক্তিশালী করবে।৩। নিজের নাম বা পরিচিত আদ্যাক্ষর, জন্মদিন, জন্মের সাল, ফোন নাম্বার ইত্যাদি তথ্যের ব্যবহার পাসওয়ার্ডকে দুর্বল করে ফেলে। কারণ, তা অন্যদের পক্ষে ধারণা করা অপেক্ষাকৃত সহজ।৪। কমপক্ষে ৮ টি অক্ষর ব্যবহার করুন। সংখ্যা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরলধারা (যেমন ১১১, ৯৯৯, ১২৩) ব্যবহার না করাই উত্তম।৫। অনলাইনে সকল পরিষেবাগুলির জন্য একটি পাসওয়ার্ড পুনঃব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।৬। কোনো অবস্থায়ই অন্যদের সাথে পাসওয়ার্ড শেয়ার করা যাবে না। 

আরও জানুন
Issue area পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে করণীয়

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা হরহামেশাই যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন, তারমধ্যে পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া অন্যতম। বিভিন্ন মাধ্যমের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড থাকলে একাউন্টের সুরক্ষা নিশ্চিত হয় ঠিকই কিন্তু, পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায় বহুগুন। তাছাড়া, নিরাপত্তাজনিত কারণে অথবা জরুরি প্রয়োজনে অনেক সময়ই পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা যায়। পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের জন্য পুরনো পাসওয়ার্ডটি মনে রাখা জরুরি। এমতাবস্থায় পুরনো পাসওয়ার্ডটি ভুলে গেলে তখন সেটি পুনরুদ্ধার করতে হয়। তাই, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীগণের পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধার করার প্রক্রিয়াগুলি জেনে রাখা প্রয়োজন। গুগল একাউন্টের পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে করণীয়:ইন্টারনেট ব্যবহারকারীগণ যেসকল ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্যবহার করে থাকেন তার মধ্যে গুগল সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন। ফেসবুক, ইউটিউব বা ইন্সটাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাউন্ট খুলতে, জি স্যুট (গুগল ফর্ম,স্প্রেডশিট ইত্যাদি) ব্যবহার করতে অথবা গুগল ক্লাসরুমে জয়েন করতেও গুগল একাউন্ট থাকা আবশ্যক। আবার ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘ইমেইল’ আদান-প্রদানের জন্য গুগল সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়। তাই গুগল একাউন্টের পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে করণীয় সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি। তোমার গুগল একাউন্টের পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে যা করবে –১। প্রথমে ‘জি-মেইল সাইন-ইন’ পাতায় (পেজে) প্রবেশ করতে হবে এবং ফরগট পাসওয়ার্ড (পাসওয়ার্ড ভুলে গিয়েছি) অপশনটি বাছাই করতে হবে।২। গুগল তোমার কাছে ‘রিকভারি ইমেইল ঠিকানা’ (যেই ইমেইল ঠিকানায় পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধার কোড পাঠানো হবে) জিজ্ঞেস করবে।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রিকভারি ইমেইল ঠিকানা সাধারণত ইমেইল একাউন্ট খোলার সময়েই সংযোজন করে রাখা উচিৎ। রিকভারি ইমেইল ঠিকানার পাশাপাশি রিকভারি মোবাইল নম্বর ও সংযুক্ত করে রাখা যায়।৩। পরবর্তী ধাপে গুগল রিকভারি ইমেইল ঠিকানাতে একটি ৬ সংখ্যার কোড পাঠিয়ে দিয়ে থাকে। এটি ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড পুনরায় সংযোজন করতে পারবে। ফেসবুক একাউন্টের পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে করণীয়:ইন্টারনেট ব্যবহারকারীগণ যেসকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে থাকেন তার মধ্যে ফেসবুক সর্বাধিক জনপ্রিয়। বন্ধুদের সাথে সংযুক্ত থাকা, পছন্দের সেলিব্রিটিদের জীবনযাত্রা অনুসরণ করা, অনলাইনে বিভিন্ন কেনাকাটা কিংবা নিজের মনের ভাব প্রকাশের জন্য ফেসবুকের জুড়ি মেলা ভার। এর পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রুপ-পেজ সমূহ ব্যবহার করে সচেতনতা তৈরির কাজও হয়ে থাকে অনেক। সর্বস্তরের মানুষের মতামত জানা ও ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটি বেশ চমকপ্রদভাবে ফেসবুক করে আসছে। তবে বিভিন্ন থার্ড পার্টি অ্যাপ্স এর অবাধ বিচরণের কারণে ফেসবুক থেকে তোমার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেহাত হওয়া, একাউন্ট হ্যাক হওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তাই, ফেসবুক একাউন্টের পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে অথবা বেহাত হয়ে গেলে করণীয় সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি। তোমার ফেসবুক একাউন্টের পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে যা করবে –১। প্রথমে ‘ফেসবুক লগ-ইন’ পাতায় (পেজে) প্রবেশ করতে হবে এবং ফরগট পাসওয়ার্ড (পাসওয়ার্ড ভুলে গিয়েছি) অপশনটি বাছাই করতে হবে।২। এবারে স্ক্রিনে প্রদত্ত ফর্মটিতে ব্যবহারকারীর ইমেইল ঠিকানা বা মোবাইল বসাতে হবে।৩। প্রদত্ত ইমেইল ঠিকানায় বা মোবাইল নম্বরে একটি কোড আসবে। ৪। স্ক্রিনে তোমার একাউন্ট আসলে সেটিকে বাছাই (সিলেক্ট) করতে হবে।৫। কোডটি ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের সুযোগ পাবে।

আরও জানুন
Issue area অ্যাকাউন্ট পুনঃরুদ্ধার

পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া, অ্যাকাউন্ট হ্যাকারদের হাতে পড়াসহ বিভিন্ন কারণেই অ্যাকাউন্টসমূহ পুনরুদ্ধার করার প্রয়োজন পড়ে। বিভিন্ন মাধ্যমের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড থাকলে অ্যাকাউন্টের সুরক্ষা নিশ্চিত হয় ঠিকই কিন্তু, এর ফলে পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায় বহুগুন। তখন একাউন্টে প্রবেশ করতে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে পাবলিক ওয়াই-ফাই, সাইবার ক্যাফে ব্যবহার কিংবা ফিশিং এর কারণে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে থাকে। তাই, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীগণের অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করার প্রক্রিয়াগুলি জেনে রাখা জরুরি প্রয়োজন। গুগল, ফেসবুক, ইত্যাদি বহুল প্রচলিত মাধ্যমগুলির অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করার প্রক্রিয়া নিম্নরুপ:গুগল একাউন্ট পুনরুদ্ধার করার প্রক্রিয়া: ইন্টারনেট ব্যবহারকারীগণ যেসকল ওয়েবসাইট, অ্যাপ ব্যবহার করে থাকেন তার মধ্যে গুগল সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে, জি স্যুট (গুগল ফর্ম,স্প্রেডশিট ইত্যাদি) ব্যবহার করতে অথবা গুগল ক্লাসরুমে জয়েন করতে গুগল অ্যাকাউন্ট থাকা আবশ্যক। তবে গুগল সর্বাধিক ব্যবহৃত হয় ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম - ‘ইমেইল’ আদান-প্রদানের জন্য। গুগল অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করার জন্য যে সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে –১. পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া দুটি উপায়ে শুরু করা যেতে পারে। যথা-ক) https://mail.google.com/ এ গিয়ে Gmail সাইন ইন পৃষ্ঠাতে যাও এবং তোমার ইমেইল ঠিকানাটি প্রবেশ করার পরে "পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন বা Forgot Password?" লিঙ্কটিতে ক্লিক করো।অথবা,খ) পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করতে সরাসরি https://accounts.google.com/signin/recovery তে যাও।২। এখানে তোমাকে একটি "Account Support" পৃষ্ঠা দেখবে, যেখানে তোমার ইমেল ঠিকানাটি দিতে হবে এবং প্রক্রিয়াটি শুরু করতে Next বাটনটিতে ক্লিক করতে হবে। ৩। পরবর্তী ধাপে গুগল তোমার নিকট অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড জানতে চাবে। পাসওয়ার্ড মনে থাকলে তা প্রদান করার সাথে সাথেই একাউন্টে প্রবেশ করার সুযোগ পাবে।৪। যদি তোমার সর্বশেষ ব্যবহার করা পাসওয়ার্ড মনে না থাকে তখন –·    এই অ্যাকাউন্টের জন্য পূর্বে ব্যবহার করেছো এমন পাসওয়ার্ড গুগল তোমার কাছে জানতে চাইবে।·     তুমি যদি পূর্বে ব্যবহার করা কোনো পাসওয়ার্ডই মনে করতে না পারো তবে, তোমাকে কিছু প্রশ্নোত্তরের সম্মুখীন হতে হবে।৫। প্রশ্নোত্তরের কোনো উত্তর এড়িয়ে না গিয়ে সম্ভাব্য সকল উত্তর প্রদান করলে গুগলে তোমার অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। এছাড়াও, ৬। যদি তোমার অ্যাকাউন্টে ‘রিকভারি ইমেইল ঠিকানা’ (যেই ইমেইল ঠিকানায় পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধার কোড পাঠানো হবে) সংযুক্ত থাকে তবে, গুগল তোমার কাছে ‘রিকভারি ইমেইল ঠিকানা’ জিজ্ঞেস করবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রিকভারি ইমেইল ঠিকানা সাধারণত ইমেইল অ্যাকাউন্ট খোলার সময়েই সংযোজন করে রাখা উচিৎ। রিকভারি ইমেইল ঠিকানার পাশাপাশি রিকভারি মোবাইল নম্বর ও সংযুক্ত করে রাখা যায়।৭। পরবর্তী ধাপে গুগল রিকভারি ইমেইল ঠিকানাতে একটি ৬ সংখ্যার কোড পাঠিয়ে দিয়ে থাকে। এটি ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড পুনরায় সংযোজন করতে পারবে এবং অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার হয়ে যাবে। ফেসবুক একাউন্ট পুনরুদ্ধার করার প্রক্রিয়া:প্রাত্যহিক সামাজিক যোগাযোগ, পছন্দের সেলিব্রিটিদের জীবনযাত্রা অনুসরণ, অনলাইনে বিভিন্ন কেনাকাটা কিংবা নিজের মনের ভাব প্রকাশের জন্য ফেসবুকের জুড়ি মেলা ভার। তবে বিভিন্ন থার্ড পার্টি অ্যাপ এ অবাধ বিচরণের কারণে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তাই, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করার নিয়মগুলি জেনে রাখাও অত্যন্ত জরুরি। নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করে খুব সহজেই তোমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধার করতে পারবে– ১। প্রথমে ‘facebook.com/login/identify’ পাতায় প্রবেশ করতে হবে এবং প্রদত্ত নির্দেশাবলি অনুসরণ করতে হবে।এক্ষেত্রে, অবশ্যই এমন কম্পিউটার/মোবাইল ফোন ব্যবহার করবে যেটির মাধ্যমে ইতোপূর্বে ফেসবুক অ্যাকাউন্টটিতে লগ-ইন করা হয়েছিলো।২। এবারে, যেই অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধার করতে চাও, নির্দিষ্ট ঘরে সেই একাউন্টের ‘ইউজার নেইম (অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা নাম), ইমেইল ঠিকানা অথবা ফোন নম্বরের সাহায্যে অ্যাকাউন্টটি খুজতে হবে।৩। স্ক্রিনে তোমার অ্যাকাউন্ট আসলে সেটিকে বাছাই (সিলেক্ট) করতে হবে।৪। এরপরে অ্যাকাউন্টের সাথে সংযুক্ত ইমেইল ঠিকানা অথবা মোবাইল নম্বরে পুনরুদ্ধার কোড পাঠানোর অনুরোধ করতে হবে।৫। এই কোডটি ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের সুযোগ পাবে এবং একাউন্টটি পুনরুদ্ধার করতে পারবে।

আরও জানুন
Issue area অনিরাপদ ওয়েবসাইট ও অ্যাপ চেনার উপায়

ওয়েবসাইট হলো অনেকগুলো ওয়েব পেজ এর সমষ্টি যেখানে টেক্সট, ছবি, অডিও, ভিডিও এবং অন্যান্য নানা উপাদান থাকতে পারে। প্রতিটি ওয়েবসাইটের একটি ঠিকানা থাকে যার মাধ্যমে ওয়েবসাইটটিকে খুঁজে পাওয়া যায়। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীগণ ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, কিংবা স্মার্টফোনের মতো ডিভাইসের সাহায্যে ওয়েবসাইটগুলিতে প্রবেশ করতে পারে৷ওয়েবসাইটের সাহায্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করা হয়ে থাকে। যেমন- ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের মধ্যে যোগাযোগের একটি আধুনিক, দ্রুত এবং সহজ উপায় হিসেবে ওয়েবসাইটের ব্যবহার রয়েছে। এছাড়াও, কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ (যোগাযোগের জন্য জরুরি তথ্য, প্রতিষ্ঠানের পরিষেবা প্রদানের সময়, প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা, পণ্যের ছবি প্রদর্শন, ইত্যাদি) সর্বসাধারণের সার্বক্ষণিক নাগালের মধ্যে রাখতে এবং সম্ভাব্য গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া জানতে ওয়েবসাইট ব্যবহার হয়ে থাকে।ওয়েবসাইটের যেমন অনেক উপকারী দিক রয়েছে, তেমনি কিছু কিছু ওয়েবসাইট ক্ষয়ক্ষতির কারণও হয়ে থাকে। অসাধু মানুষদের দৌরাত্ম্যের কারণে সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য ওয়েবসাইটসমূহ কখনো কখনো ফাঁদে পরিণত হয়। তাই, অনিরাপদ ওয়েবসাইট চেনার উপায়গুলি জেনে রাখা আবশ্যক। অনিরাপদ ওয়েবসাইট চেনার উপায়: কোনো ওয়েবসাইট অনিরাপদ কিনা তা বোঝার কিছু সহজ উপায় আছে:১। ওয়েবসাইটটি তোমাকে কোনো একটি সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে, একটি ফাইল সংরক্ষণ (Save) করতে বা একটি প্রোগ্রাম চালাতে বলতে পারে।২। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি অপ্রত্যাশিত উইন্ডো (নতুন ওয়েব পেজ) চালু হতে পারে।৩। তোমাকে একটি ফাইল ডাউনলোড করতে বলা হতে পারে। (যেমন কোনো একটি PDF, .zip, .rar, বা .scr ফাইল)৪। এছাড়াও ক্ষতিকর ওয়েবসাইট তোমাকে ভড়কে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন কথা বলতে পারে। যেমনঃ-        তোমার কম্পিউটার ইতিমধ্যে ম্যালওয়্যার দ্বারা সংক্রমিত হয়েছে-      তোমার ব্রাউজারটি পুরানো এবং সংস্কার প্রয়োজন-      তুমি একটি প্রতিযোগিতা, নিলাম অথবা লটারি জিতেছো। এরপরে পুরষ্কার সংগ্রহের জন্য ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর তথ্য প্রদান করতে বলতে পারে।-      তোমাকে খুব কম মূল্যে কোন পণ্য বা সেবা অফার করতে পারে বা বিনামূল্যে অর্থপ্রাপ্তির রশীদও দেওয়া হতে পারে যা সংগ্রহের জন্য তোমার ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাঙ্কিং তথ্য প্রদান করতে বলতে পারে। 

আরও জানুন
Issue area অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য এবং ডিজিটাল কনটেন্ট (যেমন: ছবি, ভিডিও)-এর গোপনীয়তা রক্ষার্থে করণীয়

মাহিন কিছুদিন আগেই মতিঝিলের একটি স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। সম্প্রতি সে ছুটি কাটাতে পরিবারের সাথে দোয়েল রিসোর্টে ঘুরতে গিয়েছিলো। ঘুরাঘুরির বিভিন্ন মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়ার কারণে মাহিনের অনেক ব্যক্তিগত তথ্য সকলের জন্য উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছে। গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশ করে মাহিন জানতে পেরেছে যে, তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে অন্য কেউ একটি নতুন আইডি খুলেছে। এই হয়রানি থেকে বাঁচার উপায় খুজতে মাহিন তার বন্ধু তাহসিনের কাছে সাহায্য চেয়েছিলো। সব শুনে, তাহসিন মাহিনকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অথবা অনলাইনে যেকোনো ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়।মাহিনের মতো এমন শতশত তরুণ-তরুণী অসাবধানতার বশে প্রতিদিনই নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে শেয়ার করছে। ফলশ্রুতিতে পরিচয় চুরি কিংবা জালিয়াতির মতো হয়রানির স্বীকার হচ্ছে।অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য যেমন- তোমার ঠিকানা, ফোন নম্বর, পরিবারের সদস্যদের নাম, গাড়ির তথ্য, পাসওয়ার্ড, কাজের ইতিহাস, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, জন্ম তারিখ, স্কুলের নাম, পাসপোর্টের তথ্য, ড্রাইভারের লাইসেন্স নম্বর, বীমা পলিসি নম্বর, ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড নম্বর, এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ইত্যাদির মতো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করা ঝুঁকিপূর্ণ ।তুমি অনলাইনে যা পোস্ট করো, তা যে কেউ দেখতে পারে। তাই, অনলাইনে কিছু পোস্ট করার আগে বা ইমেইলে তথ্য শেয়ার করার আগে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। অপরিচিত ব্যক্তিদের সাথে অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা তোমার জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে। কেউ তোমার ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে কি করতে পারে?একজন ছদ্মবেশী ব্যক্তি তোমার নাম এবং তথ্য ব্যবহার করে-·         নকল ক্রেডিট কার্ড, জাল পাসপোর্ট বানাতে পারে।·         নকল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা করতে পারে।·         সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া একাউন্ট খুলে তোমার ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে। এক্ষেত্রে, তার করা যেকোনো ভুল কাজের জন্য তোমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হতে পারে বা হয়রানির শিকার হতে পারো।·         তোমার ছবি, অঙ্গভঙ্গিমা ব্যবহার করে এনিমেশন চরিত্র প্রস্তুত করতে পারে। যার প্রচারণা অনেকক্ষেত্রেই বিব্রতকর হতে পারে।·         এমনকি ছদ্মবেশী একজন আসামী হলে, গ্রেপ্তার এড়াতে তোমার পরিচয় নিয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে।·         অপরাধ সংগঠনের পরে আলামত হিসেবে তোমার তথ্য রেখে এসে ফাঁসিয়ে দিতে পারে।  অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদভাবে শেয়ার করতে করণীয়:১. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলিতে নিয়মিত তোমার ‘গোপনীয়তা সেটিংস’ পরীক্ষা কর৷২.বাস্তব জীবনে যাদের সাথে পরিচয় আছে এমন ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো দেওয়া লিঙ্ক-এ প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।  ৩.তোমার পরিচিতদের ব্যক্তিগত তথ্য এর প্রতি যত্নশীল হওয়া তোমার কর্তব্য। তাই,অনলাইনে এসকল  তথ্য উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।৪. কোনো তথ্য (তারিখ, নাম, স্থান বা অর্জন, ইত্যাদি) শেয়ার করার ক্ষেত্রে, সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। প্রয়োজনে তথ্যসমূহকে অনির্দিষ্টভাবে শেয়ার করা যেতে পারে।৫. বিভিন্ন রোমাঞ্চকর মুহুর্ত, স্মরণীয় ঘটনা অথবা কোনো বিষয়বস্তু সংক্রান্ত ব্যক্তিগত মনোভাব, ইত্যাদি শেয়ার করার সময়ে খেয়াল রাখতে হবে এটি যেন অতিমাত্রার হয়ে না যায়। মনে রাখবে, একবার কোনো তথ্য ইন্টারনেটে শেয়ার হয়ে গেলে, তা কে দেখতে পাবে তার উপরে তোমার খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।৬. পাসওয়ার্ড নির্বাচন ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্যাবলি বেহাত হওয়ার হাত থেকে বাঁচা যায়।

আরও জানুন